শ্যামনগর ব্যুরোঃ উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন মানোন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে নওয়াবেকি গণমূখী ফাউন্ডেশন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম, সামাজিক উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. লুতফর রহমান উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে নওয়াবেকি গণমূখী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুটা ছিল ছোট পরিসরে, কিন্তু আজ সংগঠনটি হাজারো মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
উপকূল অঞ্চলের অনেক পরিবার একসময় অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাতো। বিশেষ করে নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা পাওয়া ছিল কঠিন। এই বাস্তবতায় নওয়াবেকি গণমূখী ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম চালু করে।
সংস্থাটির সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেয়ে বহু নারী ও যুবক ছোট ব্যবসা, কৃষিকাজ, মাছ চাষ, গবাদি পশু পালন, হস্তশিল্প এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। অনেক পরিবার আজ স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে সম্মানের সাথে জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় এক নারী উদ্যোক্তা জাহানারা খাতুন বলেন,
“একসময় সংসার চালাতে খুব কষ্ট হতো। নওয়াবেকি গণমূখী ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে ছোট ব্যবসা শুরু করি। এখন আমার পরিবার ভালোভাবে চলছে, সন্তানদের পড়াশোনাও করাতে পারছি।”
শুধু ক্ষুদ্র ঋণ নয়, সংগঠনটি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক হাজার বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। মাঠপর্যায়ে কাজের সুযোগ, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্পে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ফলে একদিকে যেমন আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক সচেতনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় পরিবার ও সমাজে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন মানুষের জীবনে নিত্যসঙ্গী। দুর্যোগকালীন সময়ে নওয়াবেকি গণমূখী ফাউন্ডেশন ত্রাণ সহায়তা, খাদ্য বিতরণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এতে দুর্যোগকবলিত মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংগঠনটি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা সহায়তা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, স্যানিটেশন, নারী ও শিশু অধিকার, জলবায়ু সচেতনতা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষকে উন্নত ও সচেতন জীবনযাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. লুতফর রহমান বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য শুধু ঋণ দেওয়া নয়, মানুষের জীবন বদলে দেওয়া। উপকূলের মানুষ যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে—সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে, যাতে উপকূলীয় অঞ্চলের আরও বেশি মানুষ উন্নয়নের সুফল পেতে পারে।
উপকূলের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া নওয়াবেকি গণমূখী ফাউন্ডেশন আজ শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, বরং হাজারো মানুষের আশা, আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বি: দ্র: প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ ও লেখা পাঠাতে আমাদের ই-মেইলে যোগাযোগ করুন।