শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ শ্যামনগর উপজেলার জেলেখালি গ্রামের নব-খননকৃত খালকে ঘিরে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি ও গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে খাল খননের যে স্বপ্ন স্থানীয় কৃষকরা দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের পর এখন খালটি দখলের আশঙ্কায় সেই স্বপ্ন ম্লান হতে বসেছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বোরো ধানের আবাদ সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য স্থায়ী জলাধার সৃষ্টি করা। কিন্তু খননকাজ শেষ হওয়ার পর খালের বিভিন্ন অংশ দখলের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকরা জানান, খাল খননের সময় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা কৃষি জমিতে খননকৃত মাটি ফেলা হয়েছিল। বৃহত্তর স্বার্থে তারা জমি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছেন। তাদের মতে, ওই জমিগুলোতে প্রতিবছর আনুমানিক ১,২০০ থেকে ১,৫০০ মণ ধান উৎপাদন হতো, যার বাজারমূল্য ছিল কয়েক লাখ টাকা। এছাড়া অনেকেই খালের পাড়ে থাকা গাছপালা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতি মেনে নিয়েছেন শুধুমাত্র এলাকার কৃষি ও পরিবেশগত উন্নয়নের স্বার্থে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি খালটি দখল হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষকরা কীভাবে খালের পানি ব্যবহার করে বোরো ধানের চাষ করবেন? জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও দেশীয় মাছের আবাসস্থল তৈরির যে লক্ষ্য ছিল, তা কি আর বাস্তবায়িত হবে?
সচেতন মহল মনে করে, একটি জলাভূমি শুধু পানির আধার নয়; এটি বাঙালির সংস্কৃতি, কৃষি ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দখলের সংস্কৃতি বন্ধ করে খালকে উন্মুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে খনন করা এই খালের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে সাধারণ কৃষক ও স্থানীয় জনগণ।
জেলেখালির কৃষকদের একটাই দাবি—খাল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক, দখলদারদের কবলে না পড়ুক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এই লেখাটি স্থানীয় পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।
বি: দ্র: প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ ও লেখা পাঠাতে আমাদের ই-মেইলে যোগাযোগ করুন।