ডেস্ক রিপোর্টঃবিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত নির্দেশনা পৌছে দেয়া হয়েছে। এর পর পদত্যাগ করতে জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে যাচ্ছেন তিনি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনায় প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আলোচনায় আসে। তবে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আসে। ওইদিন মধ্যরাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগের কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নও তৈরি হয়েছিল।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রজনন স্বাস্থ্য, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত এই সেন্টারে হামলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙার সরঞ্জাম নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। এরপর মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। এরপর ভারী যন্ত্র দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তৃতা–বিবৃতি দিয়ে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ।
স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে।
রাড্ডার ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়।
তবে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি।
বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কুকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। একই দিনে ছাত্রদলের পাঁচজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুজন ও শ্রমিক দলের চারজনকে বহিষ্কার করা হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির কোনো কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। যুবদল ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট কমিটি দুটির ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বি: দ্র: প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ ও লেখা পাঠাতে আমাদের ই-মেইলে যোগাযোগ করুন।