আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনি মর্যাদা নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ভাতিজা তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কামান্ড অভিষেক ব্যানার্জী।
গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশ করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপরেই কলকাতার রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সদর দফতর থেকে শুক্রবার রাতে বিজেপির সংকল্প পত্র বিরোধিতা করে অমিত শাহকে শেখ হাসিনার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলেন তিনি।
রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সদর দপ্তরে গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কামান্ড অভিষেক ব্যানার্জী বলেন,আসামে এনআরসি করতে গিয়ে ১৮ লাখের মধ্যে ১২ লাখ হিন্দু বাঙালিকে এনআরসি তালিকায় ইচ্ছাকৃতভাবে ডেপুটেশন ক্যাম্পে পাঠানোর জন্য, বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করার জন্য টার্গেট করেছিল।
বাঙালির ওপর বিজেপির অত্যাচার নতুন কিছু নয়। গত এক বছর ধরেই দেখে আসছি। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন সময়, বাংলায় কথা বললে, কেউ নিজের পছন্দের খাবার খেলে, কেউ বাড়িতে বাংলা ভাষায় কথা বললে অত্যাচার করা হচ্ছে। এমনকি আসামের মুখ্যমন্ত্রীও বলেছিলেন, কেউ বাংলায় কথা বললে জেলে ঢুকিয়ে দাও ,তাকে আটক করো।
তিনি আরও বলেন, বিজেপির যেসব নেতা এ ধরনের কথা বলেছেন তাদের সবাইকে পুরস্কৃত করেছে বিজেপি। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেভাবে তারা বাংলাকে ছোট করেছে আমি আশা করেছিলাম অন্তত তারা বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চাইবে। এটা না করে তিনি (অমিত শাহ) প্রকাশ্যে কার্যতো স্বীকার করেছেন যে, বিজেপি যদি বাংলায় ক্ষমতায় আসে তাহলে বাংলা-দিল্লি এবং গুজরাট থেকে পরিচালিত হবে। তার মানে কলকাতা বাংলাদেশ।
এরপরেই দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাকে তোপ দেগে প্রশ্ন করে অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, বাংলাকে যদি বাংলাদেশ পরিচালিত করে, তাহলে দিল্লিতে শেখ হাসিনা কি করছেন? ওনার জবাব আছে। দেড় বছর ধরে শেখ হাসিনাকে নরেন্দ্র মোদী সরকার কি কারণে আশ্রয় দিয়েছে? কোন শিল্পপতিকে বাঁচানোর জন্য?
অভিষেক আরও বলেন,শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কি? তিনি কি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? অমিত শাহ জবাব দিতে পারবেন। আজকে তারা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে বাংলায় যদি কোনদিন বিজেপি সরকার আসে তাহলে দিল্লি এবং গুজরাট থেকে বাংলা পরিচালিত হবে। এটা আমরা বলছি না বিজেপি আজকের সিলমোহর দিয়ে দিয়েছে।
অভিষেক ব্যানার্জীর এমন মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতি সরগম। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে এতদিন বাংলাদেশের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ নিয়ে চর্চা চলছিল। এবার ভারতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে দাড়ালো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বি: দ্র: প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ ও লেখা পাঠাতে আমাদের ই-মেইলে যোগাযোগ করুন।