এম এ রশিদ শ্যামনগর,সংবাদদাতাঃসাতক্ষীরার পশ্চিম সুন্দরবন রেঞ্জের অভয়ারণ্যের বাইরে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের চরে একটি বড় আকারের ডিম পাড়া কচ্ছপ মরা অবস্থায় দেখতে পাওয়া গেছে। কচ্ছপটির মুখে মাছ ধরার জালের দড়ি পেঁচানো ছিল এবং পাশে কয়েকটি ডিমও পড়ে থাকতে দেখা যায়।
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক মান্দারবাড়িয়া চরে নামার পর প্রথম কচ্ছপটির মরদেহ দেখতে পান। একই দিনে মাহমুদা নদীর মাইটের সংযোগস্থলে নদীতে ভাসমান অবস্থায় আরেকটি মৃত কচ্ছপ দেখতে পাওয়া যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পর্যটক নজরুল ইসলাম বলেন, “ডিম পাড়া কচ্ছপের এমন মৃত্যু দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। কচ্ছপটির শরীরে জাল পেঁচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জেলেদের জালে পড়ে এর মৃত্যু হয়েছে। আমরা ঘুরে দেখেছি, অভয়ারণ্যের নদীতে অসংখ্য জাল পাতা রয়েছে।”
আরেক পর্যটক রাকিব হাসান বলেন, “অভয়ারণ্যের ভেতরে যদি এভাবে জালে পড়ে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়, তাহলে তা খুবই দুঃখজনক। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলেরা কীভাবে অভয়ারণ্যে প্রবেশ করছে সেটা প্রশ্নের বিষয়।”
পর্যটক ও পরিবেশকর্মী ওসমান গনি সোহাগ বলেন, “জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকাকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু বন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে অবৈধ জাল নিয়ে প্রবেশ করে মাছ ধরার কারণে কচ্ছপ ও কুমিরের মতো প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।”
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের পুষ্পকাটি বন টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, “কচ্ছপটি বার্ধক্যজনিত কারণেও মারা যেতে পারে। এছাড়া সাগরের জেলেদের জালে আটকে অনেক সময় কচ্ছপ মারা যায়। জোয়ার-ভাটার সময় সাগর থেকে ভেসে আমাদের এলাকায় আসতে পারে।
বি: দ্র: প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ ও লেখা পাঠাতে আমাদের ই-মেইলে যোগাযোগ করুন।