মোঃ আল আমিন গাজী শ্যামনগর প্রতিনিধিঃসাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাদকের টাকার জন্য মায়ের কাছে টাকা না পেয়ে রমেশ মণ্ডল (৩০) নামের এক মাদকাসক্ত যুবকের নির্মম ও নৃশংস তাণ্ডবে তার কাকি সুধা রানী (৫৮) নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘাতকের দা ও কুড়ালের কোপে তার নিজের মা ও চাচাতো ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার বাধঘাটা গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্যামনগরে মাদকের বিস্তার ও প্রশাসনের চরম উদাসীনতার কারণেই আজ একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাধঘাটা গ্রামের সিদাম মণ্ডলের ছেলে রমেশ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। ঘটনার দিন সকালে মাদকের নেশার টাকা জোগাড় করতে সে তার মায়ের কাছে জোরপূর্বক অর্থ দাবি করে। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রমেশ তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।
মায়ের চিৎকার শুনে পাশের বাড়ি থেকে কাকী সুধা রানী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। এ সময় উন্মত্ত রমেশ হাতে থাকা ধারালো দা ও কুড়াল দিয়ে সুধা রানীর ঘাড়ে উপর্যুপরি কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মায়ের প্রাণনাশের দৃশ্য দেখে চিৎকার দিয়ে এগিয়ে আসেন সুধা রানীর ছেলে সুমির (২৬)। এ সময় ঘাতক রমেশ তার ওপরও হামলা চালায়; সে বাম হাতে কোপ খাওয়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তলপেট ফেঁড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হয়। বাধা দিতে গেলে রমেশের মায়ের বাম হাতের আঙুলও কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দিলে শ্যামনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত সুমির ও রমেশের মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এদিকে ঘাতক রমেশ মণ্ডল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শ্যামনগরে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বহুবার প্রতিবাদ ও লেখালেখি হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো জোরালো বা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উপজেলার প্রতিটি মাদক কারবারির নাম ও অবস্থান প্রশাসনের নখদর্পণে থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। স্থানীয়দের দাবি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যদি অতীতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হতো, তবে আজ আর মায়ের বা কাকির বুক এভাবে খালি হতো না।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল্লাহ পাটোয়ারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বি: দ্র: প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ ও লেখা পাঠাতে আমাদের ই-মেইলে যোগাযোগ করুন।