মোঃ আল আমিন গাজী,শ্যামনগর প্রতিনিধি: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন- অব্যাহত রয়েছে বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বন বিভাগের তৎপরতা। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (২০ এপ্রিল) নিয়মিত ফুট পেট্রোলিংকালে সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করেছেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির ব্যারাকখাল এলাকায় সন্দেহজনক কার্যকলাপের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বনের ভেতরে পেতে রাখা ৪১টি হরিণ শিকারের ‘মালা ফাঁদ’ উদ্ধার করা হয়। ফাঁদগুলো এমনভাবে পাতা ছিল, যাতে বনাঞ্চলে বিচরণরত হরিণ সহজেই আটকা পড়ে শিকারিদের হাতে প্রাণ হারায়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, “সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছি। উদ্ধারকৃত এসব ফাঁদ ধ্বংস করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। বন বিভাগের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, সুন্দরবন শুধু দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তাই এখানে বসবাসকারী বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হরিণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, সুন্দরবনে হরিণ শিকার বন্ধ না হলে পুরো খাদ্যশৃঙ্খল হুমকির মুখে পড়বে। কারণ হরিণ এই বনাঞ্চলের অন্যতম প্রধান তৃণভোজী প্রাণী, যা বনজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবৈধ শিকার বৃদ্ধি পেলে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট কর্মকর্তা ফজলুল হক, সাধারণ জনগণকে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যদি এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেয়ে থাকেন, তাহলে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরেই অসাধু শিকারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে এসব কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
বি: দ্র: প্রকাশিত সংবাদে কোন অভিযোগ ও লেখা পাঠাতে আমাদের ই-মেইলে যোগাযোগ করুন।