,

ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক, কাল বসন্ত

মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টারঃফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক কাল বসন্ত,পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন এবং বাংলা সনের ১১তম মাস।বসন্ত মানে পূর্ণতা,বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব।
বদলে যাওয়ায় বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসারে এবারও বাঙালি বসন্ত উৎযাপন করবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।নতুন সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে পহেলা ফাল্গুন অর্থাৎ বসন্তের প্রথম দিনেই হচ্ছে বিশ্ব- ভালোবাসা দিবস‌।ইংরেজি বর্ষপঞ্জির ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয় সারা বিশ্বে।বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী। বসন্তের এই প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা ফাল্গুন ছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি। তবে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের পর একই দিনে বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবস পালন করা হচ্ছে।শুধু এই দিন নয় ১৯৭১ সালের কয়েকটি ঐতিহাসিক দিনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি। যার ফলে ইংরেজি দিন ঠিক থাকলেও কিছুটা এদিক সেদিক হয়েছে বাংলা মাসের তারিখ। নতুন এই বর্ষপঞ্জিতে জাতীয় দিবসের বাংলা তারিখ এখন থেকে একই থাকবে প্রতিবছর।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই পশ্চিম বঙ্গের শান্তি নিকেতনে বিশেষ রবিন্দ্রগীতের মাধ্যমে বসন্ত উৎসব পালনের রীতি চলে আসছে।বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে বাংলাদেশে বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়,তবে খুব বেশি ঘটা করে পালন হয় ১৫৮৫ সালে সম্রাট আকবর বাংলা বর্ষপঞ্জি হিসেবে আকবরি সন বা ফসলী সনের প্রবর্তন করার পর।
একই সঙ্গে প্রবর্তিত হয় প্রতি বছর ১৪টি উৎসব পালনের রীতিও।এর মধ্যেই অন্যতম ছিল বসন্ত উৎসব।ফাল্গুনের প্রথম দিনকে বাংলাদেশে পহেলা ফাল্গুন ও বসন্ত বরণ উৎসব হিসেবে উদযাপন করা হয় যা ১৯৯১ সালে সর্বপ্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ কর্তৃক আয়োজন করা হয়।শীতের রুক্ষতাকে পিছনে ফেলে প্রকৃতিকে আবার নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে বসন্ত।
গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুলের মুকুল আসে,পাখি গান গায়,আর বাতাসে ভাসে মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণ।প্রজা পতিরা রঙিন ডানা মেলে জানান দেয় ঋতু রাজের আগমনী বার্তা। বসন্তে শুধু প্রকৃতিতেই নয় মানুষের মনেও জাগায় নতুন প্রাণের ছোঁয়া।তাই বসন্তের প্রথম দিনটিকে উদযাপন করতে সবাই মেতে ওঠে উৎসবে।নিজেকে সাজিয়ে তোলে বসন্তের নতুন রঙে।ফাল্গুন নামটি এসেছে মূলত ফাল্গুনী নামে নক্ষত্র থেকে,খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষ উভয়ই মেনে চলা হতো।ফাল্গুন ছিল পূর্ণ চন্দ্রের মাস ১৯৫০-১৯৬০ দশকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে পহেলা ফাল্গুন পালন শুরু হয়। সে সময় বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের সংস্কৃতি থেকে নিজেদেরকে আলাদা করতে রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনার পাশাপাশি বাঙালি নিয়মে পহেলা ফাল্গুন পালন শুরু করে।ঋতুরাজ বসন্তকে বাঙালি বেশ আয়োজন করেই বরণ করে নেয়।
তাইতো ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক,কাল বসন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *