,

ইটভাটার মাঝি কে পায়ে শিকল পরিয়ে ১৫ দিন যাবৎ আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে

মোঃ আবুল বাসার,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃঘটনা টি গটেছে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের তাহের মার্কেট এলাকার সাইফুল কন্টেক্টারের ইটভাটায়।
অভিযোগ উঠেছে, সাইফুল কন্টেক্টারের ইটভাটায় শ্রমিক নিয়ে কাজ করতে যান সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কামাল মাঝি,কামাল মাঝির স্ত্রী জুলেখা খাতুন জানান সিজন শেষে আমার স্বামীর টাকা পরিশোধ না হওয়ায় তাকে ধরে নিয়ে পায়ে শিকল লাগিয়ে ১৫ দিন ইটভাটায় আটকে রেখে নির্যাতন করছে ইটভাটার মালিক সাইফুল কন্টেক্টার।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের হতাশা ও আতংকে দিন কাটছে,
ভুক্তভোগীর স্ত্রী জুলেখা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী রামগতি তাহের মার্কেটের পাশে শ্রমিক নিয়ে মাঝি হিসেবে কমিশনে কাজ করার চুক্তি হয় ইটভাটার মালিক সাইফুল কন্টেক্টারের সাথে,
চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিক কিনার জন্য অলিখিত চেকের পাতায় ও অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে সাইফুল কন্টেক্টার আমার স্বামীকে ১৬ লক্ষ টাকা প্রদান করে, সে অনুসারে সিজনের শুরুতে শ্রমিক নিয়ে আমার স্বামী সাইফুল কন্টেক্টারের ইটভাটায় কাজ করতে গিয়েছিলেন, কাজ করা অবস্থায় বিভিন্ন সময় বৃষ্টি হওয়ায় এবং তাঁর ইটভাটার কোন প্রকার সরকারি কাগজপত্র না থাকায় বার বার ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের কারণে কামাল মাঝি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মালিকের কিছু টাকা দেনা হয়ে যান, ঐ টাকার জন্য ইটভাটার মালিক সাইফুল কন্টেক্টার আমার স্বামীকে আটকে রেখে পায়ে শিকল লাগিয়ে নির্যাতন করতে থাকে, খবর পেয়ে আমি ইটভাটায় গেলে সাইফুল কন্টেক্টার বলেন, কামাল মাঝি আমার টাকা দেনা রয়েছে, আমার টাকার জন্য তাকে আটক করেছি, নগদ টাকা দিতে না পারলে কামাল মাঝির বাড়ির দলিল নিয়ে আসেন, পূনরায় আমি বাড়ির দলিল নিয়ে গেলে সাইফুল কন্টেক্টার আমার থেকে উল্টো তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বাড়ির দলিল রেখে দিয়ে আমার সাথে দূরব্যবহার করে আমাকে তাড়িয়ে দেয়, এসময় আমার স্বামীকে একনজর দেখারও সুযোগ দেয়নি সাইফুল কন্টেক্টার।
দীর্ঘ ১৫ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের পর চুক্তিপত্রের সময় নেওয়া অলিখিত চেকের পাতা ও অলিখিত স্ট্যাম্প দিয়ে মামলা করে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে, আমার স্বামী বর্তমাকে লক্ষ্মীপুর জেলহাজতে রয়েছে। আমি ৬ সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সাইফুল কন্টেক্টার কামাল মাঝিকে পাওনা টাকার জন্য আটকে রাখার কথা স্বীকার করলেও নির্যাতনের বিষয় অস্বীকার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *