,

ভারতীয় জলদস্যুদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সুন্দরবন, আতঙ্কে জেলে-বাওয়ালিরা

মোঃ আল আমিন গাজী,শ্যামনগর প্রতিনিধিঃসরকার সুন্দরবনকে স্থিতিশীল রাখতে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়েছে। এই ঘোষণার পর এ পর্যন্ত ৮টি বাহিনীর ১০১ জন সদস্য ১০৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। আরও কয়েকটি বাহিনী আত্মসমর্পণের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কিন্তু সরকারের এই সফলতার মধ্যেই নতুন করে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে ভারতীয় কাজল-মুন্না বাহিনী। এই বাহিনীর দৌরাত্ম্যে সুন্দরবনে যেতে ভয় পাচ্ছেন জেলে-বাওয়ালি ও মৌয়ালিরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের রানাঘাটের ধানতলা থানার পাঁচবেড়িয়া গ্রামের কিশোর রায় ওরফে কাজল ওরফে মুন্নার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি বাহিনী বাংলাদেশের সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে। সুন্দরবনে বর্তমানে সবচেয়ে দাপুটে বাহিনীগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাহিনীটিতে সহযোগী হিসেবে রয়েছেন ভারতের মোল্লাখালী এলাকার গোপাল মন্ডল, কাকমারি সাতজেলিয়ার কাঁকড়া ডিপোর মালিক সঞ্জয় নায়েক, মোল্লাখালী পালমারি খেয়াঘাটের বাপ্পি মন্ডল, চুনোখালীর মিন্টু মোড়ল, কালিতলার আলী হোসেন ও মোল্লাখালীর সিদ্ধেশ্বরসহ আরও কয়েকজন। বাহিনীটি উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন মাধবকাটি পাটঘেরা এলাকার নেপাল মন্ডল ও জোনাব।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাহিনীটি জেলে জিম্মি, মুক্তিপণ আদায়, জেলেদের আহরিত মাছ-কাঁকড়া লুট, সীমান্তে মাদক ও গরু পাচারকারীদের সহযোগিতা এবং হরিণ ও বাঘ শিকারের মতো অপরাধে জড়িত।
বিগত এক সপ্তাহে এই বাহিনীর কাছে ১৫ জন জেলে জিম্মি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেও কয়েকজন এখনো জিম্মি রয়েছেন। জিম্মি থাকা জেলেদের সহযোগীদের দাবি, জনবল কম থাকায় জিম্মি জেলেদের দিয়েই দস্যুতা করানো হচ্ছে।

প্রায় এক মাস আগে সুন্দরবনে যাওয়া কালিঞ্চি এলাকার খানজাহান এখনো নিখোঁজ। এলাকার একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, খানজাহান এই বাহিনীর সক্রিয় সদস্য এবং তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা নেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কাজল-মুন্না ও জোনাব নামে দুটি বাহিনীর কথা শোনা গেলেও মূলত তারা একই বাহিনী। এক মাস কাজল-মুন্না বাহিনীর নামে এবং পরের মাস জোনাব বাহিনীর নামে দস্যুতা করে দুই দফায় অর্থ আদায় করা হয়।

জেলেদের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে নেওয়া টাকা শৈলখালী এলাকার সহদেবের হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সহদেবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীর চুনা, মুন্সিগঞ্জের হরিনগর, বড় ভেটখালী ও রমজাননগরের টেংরাখালী এলাকায় র‍্যাব বর্তমানে (এস আর বি) এর অভিযানে ও টেংরা খালি এলাকায় পুলিশের পৃথক অভিযানে বিপুল ভারতীয় ওষুধ, মাদক ও কসমেটিকসহ তিনজন আটক হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চালানগুলো সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নিরাপদে পারাপারে কাজল-মুন্না বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে।

সদ্য দস্যুদের ডেরা থেকে ফিরে আসা বুড়িগোয়ালিনীর দাতিনাখালী গ্রামের আব্দুল্লাহ বলেন, বৈধভাবে সুন্দরবনে যাওয়ার পর ফিরিঙ্গি এলাকায় কাজল-মুন্না বাহিনীর পরিচয়ে আমাদের আটক করে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

সুন্দরবনের জেলে-বাওয়ালিদের দাবি, সুন্দরবনকে স্থিতিশীল রাখতে এবং আত্মসমর্পণ কার্যক্রম সফল করতে এই বাহিনীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *