,

শ্যামনগরে উৎপাদনের তারিখ ছাড়া বিক্রি হচ্ছে বেকারি পণ্য প্রশ্নের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা

এম এ রশিদ শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃসাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দুটি বেকারি প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত কেক রুটি বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি খাদ্যপণ্য উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ না করেই বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভোক্তারা পণ্যটি কবে উৎপাদিত হয়েছে তা জানতে না পারায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন দোকান থেকে সংগ্রহ করা নিউ সুন্দরবন বেকারি ও রয়েল ফুডস অ্যান্ড বেকারির প্যাকেটজাত পণ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোড়কে উৎপাদনের তারিখ লেখার নির্ধারিত স্থান ফাঁকা রাখা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ভোক্তা জানান উৎপাদনের তারিখ না থাকায় তারা বুঝতে পারছেন না পণ্যটি কতদিন আগে তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

মুদি ব্যবসায়ী আবুল মোল্লা বলেন বেকারি পণ্যে উৎপাদনের তারিখ না থাকাটা দুঃখজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বেকারি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ করার অনুরোধ জানানো হবে।

আরেক মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন উৎপাদনের তারিখ না থাকায় ভোক্তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ অথবা ব্যবহারযোগ্যতার তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এসব তথ্য ভোক্তার জানার অধিকার এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অভিযোগের বিষয়ে রয়েল ফুডস অ্যান্ড বেকারি কর্তৃপক্ষ জানায় উৎপাদনের তারিখ ছাপানোর মেশিনটি সাময়িকভাবে নষ্ট থাকায় উৎপাদনের তারিখ দেয়া সম্ভব হয়নি ইতোমধ্যে মেশিনটি মেরামত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সব পণ্যে উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ করা হবে।

অন্যদিকে নিউ সুন্দরবন বেকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফা বলেন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *