,

সংস্কারের দাবিতে সড়কে ধান রোপণ, দুর্ভোগে কৈখালীর মানুষ

মোঃ আল আমিন গাজী,শ্যামনগর প্রতিনিধিঃদীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও উন্নয়নের অপেক্ষায় থাকা সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের একদল যুবক। সংস্কারের দাবিতে তারা সড়কের ওপর ধান রোপণ করেছেন। ধান রোপণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, কৈখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কৈখালী গ্রামের নওশাদ দোকানদারের বাড়ি থেকে আলহাজ্ব আদম গাজীর বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয়ভাবে ‘বিজিবি সড়ক’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা ও পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানিয়েও কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকে স্থানীয় যুবকেরা সড়কের ওপর ধান রোপণ করেন। দক্ষিণ কৈখালী বায়তুল মামুন জামে মসজিদসংলগ্ন মাস্টার আবু বকর তুহিন ইসলামের বাড়ির পাশের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী আসাদুজ্জামান আসাদ, বাবলু গাজী, তুহিন ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, নজরুল ইসলাম ও আবুল গাজীসহ স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে সড়কে ধান রোপণ করা হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।

কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, “এই রাস্তাটির জন্য অনেক আগেই বাজেট বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু আমার পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান তৎকালীন সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাস্তাটির প্রকল্পটি অন্যদিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত রাস্তা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।”

তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। পরবর্তীতে রাস্তাটিকে ‘সীমান্তবর্তী রাস্তা’ হিসেবে নতুন নাম ও আইডির আওতায় নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুতই রাস্তাটির নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।”

এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্যামনগর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চেয়ারম্যানের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকাবাসী একটি চলাচলযোগ্য সড়ক ফিরে পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *