মিজানুর রহমান মিজান,(সিলেট) বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বসত-বাড়িতে অবৈধভাবে পেট্টোল মজুদ করাকে কেন্দ্র করে সিলেটের বিশ্বনাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষে ৭ জন আহত হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ইলিমপুর গ্রামে দবির মিয়ার বাড়িতে সংগঠিত ওই সংঘর্ষের পর স্থানীয় মুরব্বীরা ঘটনাস্থল থেকে ১০টি ড্রাম’সহ প্রায় ১৭০ লিটার পেট্টোল উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি মেম্বার শেখ ফজর রহমানের জিম্মায় দেন। এরপর রাতে অবৈধভাবে পেট্টোল মজুদের খবর পেয়ে থানা পুলিশ মেম্বারের জিম্মায় থাকা পেট্টোল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। তবে জব্দকৃত পেট্টোলের পরিমাণ নিয়ে সৃষ্টি হয়ে ধুম্রজাল। কারণ প্রথমে বিভিন্ন সূত্রে ১৭০ লিটার পেট্টোল উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ জানিয়েছে তারা ১২০ লিটার পেট্টোল জব্দ করেছে। যা ৫টি ড্রামের মধ্যে ছিল, আর বাকী ৫টি ড্রাম ছিল সম্পূর্ণ খালি বা শূন্য। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ইলিমপুর গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের পুত্র মাহবুব আহমেদ ও দবির মিয়ার পুত্র রাহীন মিয়ার অবৈধভাবে মজুদকৃত পেট্টোল উদ্ধারের ঘটনায় বিশ্বনাথ থানার এসআই স্বপন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে তাদের (মাহবুব-রাহীন)’কে এজাহারনামীয় এবং আরোও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১০ (তাং ১৪.০৪.২৬ইং)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার পর মাহবুব ও রাহীন নিজেদের বন্ধুদের কয়েকটি মোটর সাইকেল দিয়ে পেট্টোল ক্রয় করে অবৈধভাবে তা নিজের বাড়িতে নিয়ে মজুদ করছিলেন। এসময় অবৈধভাবে পেট্টোল মজুদের বিষয়টি মামলা অভিযুক্ত রাহীনের চাচাতো ভাই নাঈম মোবাইল দিয়ে ভিডিও ধারণ করে। এনিয়ে রাহীন ও নাঈমের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নাঈম মিয়া (২১), নাঈমের বড় ভাই খলিল মিয়া (২৩), পিতা বাদশা মিয়া (৬০), মাতা ফুলতেরা বেগম (৫২) এবং রাহীন মিয়া (১৯), রাহীনের পিতা দবির মিয়া (৫৮), মাতা ছলিমা বেগম (৪৩) আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছেন। এদিকে সংঘর্ষের পর বিষয়টি আপোষ মিমাংশায় শেষ করা জন্য স্থানীয় মুরব্বীরা এগিয়ে আসেন। এসময় দবির মিয়ার বাড়ি থেকে এলাকাবাসী পেট্টোল মজুদে ব্যবহার করা ১০টি ড্রাম’সহ মাহবুব-রাহীনের অবৈধভাবে মজুদকৃত পেট্টোল স্থানীয় ইউপি মেম্বার শেখ ফজর রহমানের জিম্মায় দেন। পরবর্তিতে থানা পুলিশ সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউপি মেম্বারর জিম্মায় থাকা পেট্টোল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ওই চক্রটি শুধু অবৈধভাবে পেট্টোল মজুদ করা নয়, চক্রটি মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত রয়েছে। সুষ্ঠ তদন্ত হলে পুলিশ এর শতভাগ সত্যতা পাবে। আর তারা জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে মোটর সাইকেল দিয়ে পেট্টোল ক্রয় করে অবৈধভাবে তা নিজের বাড়িতে নিয়ে মজুদ (ড্রাম ভর্তি) করে। বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সদস্য শেখ ফজর রহমান বলেন, সংঘর্ষের বিষয়টি আপোষ মিমাংশা করতে যাওয়া এলাকার মুরব্বীরা ড্রাম ভর্তি পেট্টোল প্রথমে আমার জিম্মার রাখেন, আমি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পরবর্তীতে থানা পুলিশ তা জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। অবৈধভাবে মজুদকৃত পেট্টোল জব্দকারী বিশ্বনাথ থানার এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, ১০টি ড্রামের ৫টিতে কোন পেট্টোল ছিল না, আর বাকী ৫টি ড্রামে থাকা ১২০ লিটার পেট্টোল পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। অবৈধভাবে মজুদকৃত পেট্টোল উদ্ধারের ঘটনায় থানায় এসআই স্বপন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধভাবে পেট্টোল মজুদকারী ওই চক্রের সাথে জড়িতদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
Design & Developed BY- zahidit.com
Leave a Reply