,

সড়ক সংস্কারে বাঁধা নয়, শুধুমাত্র অপ্রয়োজনীয় অংশ উচ্ছেদ না করার দাবিতে কুলিয়ায় বিশাল মানববন্ধন

আব্দুল্লাহ আল মামুনঃসাতক্ষীরা টু ভেটখালি মহাসড়কের আলিপুর টু কুলিয়া এলাকায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের জন্য সড়কের দু-পাশে সরকারি জমি শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশ ছাড়া বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন উচ্ছেদ অভিযানে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভূমিহীনরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেই আশঙ্কা থেকে এই মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়।
শুক্রবার ১৯ জুন সকাল ১০ঘটিকায় সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনার চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুলিয়ার স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ তঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে এবং উচ্ছেদ অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম ও কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সবুজ, কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি শিক্ষক সাদিকুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল ও সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা, কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবু সাঈদ ও কুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী প্রমুখ। দেবহাটা উপজেলা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এর সঞ্চালনায়
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আগামী ২৪ ও ২৫ তারিখে আলিপুর থেকে কুলিয়া পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তার দু-পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা রয়েছে। উক্ত উচ্ছেদ অভিযানে সড়ক প্রসারণের জন্য সরকারের যতটুকু জমি প্রয়োজন, ততটুকু অবশ্যই ব্যবহার করা হোক, এতে কারও কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত অংশ উচ্ছেদ করলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সম্পূর্ণ নিঃশ্ব হয়ে পড়বেন। রোজগারের অভাবে তাদের পরিবারের প্রতি নেমে আসবে চরম দুর্দশা ও হতাশা। সর্বপরি গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। “উন্নয়নের শার্থ রাস্তা বড় করা হোক, আমরা সকলে সেটা প্রত্যাশা করি। কিন্তু সড়কের প্রয়োজনে যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকুই উচ্ছেদ করা হোক। বাকি অংশ উচ্ছেদ না করে ব্যবসায়ীদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দেওয়া হোক।” অপ্রয়োজনীয় অংশ উচ্ছেদ না করেও সড়ক উন্নয়নের কাজ সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া শতভাগ সম্ভব।
বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, সওজের এই অভিযানের কারণে অনেকেই বাস্তুচ্যুত বা ভূমিহীন হয়ে পড়বেন, উচ্ছেদের আগে বা অবিলম্বে তাদের সরকারি উদ্যোগে পূর্ণবাসন নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বাসন ছাড়া আকস্মিক এই উচ্ছেদ অভিযান স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলবে। মানববন্ধন থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করার জোর দাবি জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *