নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলায় সক্রিয় ছিলেন সোহেল রানা ওরফে বেয়াদব রানা। নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সাভার সদর ইউনিয়ন শাখার সাবেক এই সভাপতি গা ঢাকা দেন গত ৫ আগস্টের পরই। তবে ফেসবুকে নিয়মিত চালাতেন অপপ্রচার। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর অনেক নেতাকর্মী ভারতে পলাতক থাকায় রানাও মাঝে মধ্যে বলতেন তিনিও তাদের সঙ্গেই আছেন। অবশেষে তাকে সাভার থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গেছে, ৫ আগস্ট এলাকা ছাড়লেও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছিলেন বেয়াদব রানা। দিতেন সরকার বিরোধী নানা স্ট্যার্টাস। সর্বশেষ স্ট্যার্টাসে তিনি বলেন কলকাতা থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। এরপর তিন দিনও গেল না, ধরা পড়েছেন পুলিশের জালে। অবশেষে বৃহস্পতিবার তাকে সাভারের আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বেয়াদব রানা শহীদ পরিবারের দায়ের করা পাঁচটি হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি। এ ছাড়া এক কিশোরী, অপর এক কলেজছাত্রী, বাসার কাজের বুয়াসহ ডজনখানেক ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে তার নামে। এসব অভিযোগে আওয়ামী জাহিলিয়াতের সময়ও তিনি একাধিকবার র্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, বেয়াদব রানার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী ওরফে আহম্মদ আলী। দলীয় প্রভাব বিস্তার করে সাভার সদর ইউনিয়নের চাপাইন ও ধামাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের ফরিঙ্গা গ্রামে দুটি বাড়ি তৈরি করেন বেয়াদব রানা। তিনি সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। এসব পরিচয়ে এলাকায় দাপটের সঙ্গে চলতেন।
পুলিশ আরো জানায়, বেয়াদব রানা ভারতে চলে গেছেন বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দেশেই আত্মগোপনে ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
সাভার মডেল থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুর বলেন, বেয়াদব রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত আগামী ১১ এপ্রিল রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।
Design & Developed BY- zahidit.com
Leave a Reply