,

জুলাই শহিদের মামলা নিয়ে বানিজ্যের অভিযোগে দুই বিএনপি নেতার দলীয় পদ স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্টঃ
জুলাই হত্যা মামলাকে ঘিরে ‘বাণিজ্যিক কার্যক্রমে’ জড়িত থাকার অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপির দুই নেতার দলীয় পদ স্থগিত করেছে জেলা বিএনপি। স্থগিতাদেশ দীর্ঘদিন গোপন রাখা হলেও সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরেছে। আদেশের কপি ভাইরাল হওয়ার পরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ২১ অক্টোবর জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও মাদারবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হানিফের পদ স্থগিত এবং সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকার চিপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মশিউর রহমানকে দলীয় পদসহ সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি এতদিন দলীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টোটন বলেন, জুলাই হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে মামলার প্রক্রিয়া ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা গ্রহন করাসহ তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এতে দলের নিয়ম-নীতি, দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়া এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর তাদের দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিলো। ২৩ সেপ্টেম্বর তারা লিখিত জবাব দিলেও সন্তোষজনক মনে করেনি দলের কার্যনির্বাহী কমিটি। পরে তদন্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, সম্পর্কে অভিযুক্ত দুই নেতা পিতা-পুত্র হয়। তাদের শোকজের বিষয় এর আগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। জুলাই শহিদ রায়হানের মামলা নিয়ে বানিজ্যে জড়ায় পিতা-পুত্র। শহিদ রায়হানের পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকার মেরুল বাড্ডায় পুলিশের গুলিতে রায়হান নিহত হওয়ার পর থেকেই তারা ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করে আসছেন। কিন্তু মামলাটিকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের টানাপোড়েন, রাজনৈতিক স্বার্থ আর অস্পষ্ট লেনদেনের অভিযোগ পুরো ঘটনাটিকে জটিল করে তুলেছে।

শহিদ রায়হানের বাবা কালাম হোসেন জানান, ঘটনার আট মাস পর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তারা মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মৃত্যুসনদ গ্রহণের সময় অ্যাডভোকেট মশিউর তার স্বাক্ষর নেন এবং পরে সেই কাগজ ব্যবহার করে একটি মামলা প্রস্তুত করা হয়। তার কথায়, মামলায় যাদের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি তাদের কাউকেই চেনেন না। সেই সঙ্গে মামলাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের কথাও তিনি জানতে পেরেছেন। যা শুনে তিনি আরও হতবাক হয়েছেন এবং বিএনপি নেতাদের বিষয়টি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত দুই নেতার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *