,

রামপালে বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মাহমুদুল হকের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা দোয়া ও মেডিকাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

লায়লা সুলতানা ,রামপাল (বাগেরহাট)ঃ রামপালে বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মাহমুদুল হক এর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (১১জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামে ‘আমাদের গ্রাম’ ক্যান্সার কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টারে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। প্রয়াত চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মাহমুদুল হকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সকালে তার কবর জিয়ারত ও দোয়া করা হয়। এরপর দিনব্যাপী বিশেষ ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মাহমুদুল হকের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার প্রিন্টমেকিং বিভাগের আব্দুল্লাহ আল বশির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রিন্টমেকিং বিভাগের স্বপন কুমার সানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের রোকনুজ্জামান উজ্জ্বল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুষদের চারুকলা বিভাগের প্রিন্টমেকিং চেয়ারম্যান নাজির হোসেন খান খোকন।
এ সময় আরো বক্তব্য দেন, শান্ত-মারিয়ম ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক, মাহমুদুল হকের পুত্র সাদাত মাহমুদ, পুত্রবধূ নাহিদা পারভীনসহ আমাদের গ্রাম প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ। আমেরিকা থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার ও রিচার্স সেন্টারের পরিচালক রেজা সেলিম।
এ সময় প্রয়াত বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মাহমুদুল হকের কর্মময় জীবন নিয়ে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন অতিথিবৃন্দ। তারা বলেন, বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলার এক অনন্য পথিকৃৎ, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মাহমুদুল হক। তাঁর প্রয়াণের চার বছর অতিক্রান্ত হলেও তাঁর শিল্পচেতনা, শিক্ষাদান এবং সৃজনশীল অবদান আজো শিল্পভুবনকে আলোকিত করে।
প্রফেসর মাহমুদুল হক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৫ সালে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামে। শৈশবেই পাঠ্যবইয়ের অলংকরণ ও চিত্রের মাধ্যমে শিল্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। রঙ, রেখা ও আকারের প্রতি গভীর আকর্ষণ তাঁকে ঢাকা গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে অনুপ্রাণিত করে। ১৯৬৮ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে সরকারি বৃত্তি নিয়ে ১৯৮৪ সালে জাপানের ইউনিভার্সিটি অব সুকুবা থেকে প্রিন্টমেকিংয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষে ২০১০ সালে প্রিন্টমেকিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়ও তিনি জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, নেপাল ও ভারতে শিক্ষকতা ও কর্মশালার মাধ্যমে শিল্পশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৮ সালে তিনি চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং ২০০৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জীবনকালে তিনি বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন। ১৯৮২ সালে জাপান থেকে বেস্ট পেইন্টিং অ্যাওয়ার্ডে, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৪ সালে ভারত ললিতকলা একাডেমি পারচেজ অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৬ সালে ১২তম কুয়েত আন্তর্জাতিক বিয়েনালে পুরস্কার, ২০০৬ সালে এস. এম. সুলতান পদক ও সর্বশেষ ২০১৬ সালে আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার হিসাবে ভূষিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *