,

শ্যামনগরে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে জেলের নৌকা থেকে মাছ লুটের অভিযোগ

এমএ,রশিদ,শ্যামনগর প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে জেলেদের নৌকা থেকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে মাছ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় প্রায় ২০ কেজি মাছ এবং বাজারমূল্যে প্রায় ১২ হাজার টাকার ভেটকি মাছ জোরপূর্বক উঠিয়ে নেওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সুন্দরবনের মামুদো এলাকার কাঁকড়াখালি খালের অভিমুখে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি পশ্চিম সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশন থেকে বৈধ অনুমতি গ্রহণ করেন জেলে এমান আলি ও নুর হোসেন। এমান আলির শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুমতিপত্র নেওয়ার দুই দিন পর তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন।

মৎস্য আহরণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি কোস্টগার্ড স্পিডবোট তাদের নৌকা থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় বৈধ অনুমতিপত্র দেখানো সত্ত্বেও তাদের ভারতীয় জেলে আখ্যা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন জেলেরা। একপর্যায়ে নৌকায় থাকা মাছের বাক্স থেকে আনুমানিক ২০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ স্পিডবোটে তুলে নেওয়া হয়। মাছ নিতে বাধা দিলে মারধরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এমান আলি অভিযোগ করে বলেন, “অনুমতিপত্র নেওয়ার পর অসুস্থ থাকায় দুদিন দেরিতে সুন্দরবনে যাই। এতে অনুমতির মেয়াদ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় তিন দিন বেশি হয়ে যায়। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি দিয়ে বিষয়টি সমন্বয়ের সুযোগ থাকলেও কোস্টগার্ড সদস্যরা সেটি না মেনে জরিমানা ও মামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের হয়রানি করে।”

একই দিনে সুন্দরবনের মেটে ভাঙার মুখ এলাকা থেকে হরিনগরের জেলে আব্দুল আলীমের নৌকা থেকেও মাছ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলে সুমন জানান, তার নৌকা থেকে প্রতিটি ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের দুটি ভেটকি মাছ জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী কোস্টগার্ড এককভাবে জেলেদের অনুমতিপত্র যাচাই-বাছাই করতে পারে না। শুধুমাত্র যৌথ অভিযানের ক্ষেত্রেই তা সম্ভব। জেলেদের হয়রানির অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের তালিকাভুক্ত নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

ভুক্তভোগী জেলে ও স্থানীয় সাধারণ জেলেদের প্রশ্ন, সরকারের একটি বিশেষ বাহিনীর বিরুদ্ধে যদি এ ধরনের লুটপাটের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য কোথায় যাবে? তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *