এম এ রশিদ,শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল সংকট দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ একই সময়ে খোলা বাজারে লিটার প্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে অনেক মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালক পেট্রোল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তবে খোলা বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চড়া দামে পেট্রোল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে কিছু ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা গোপনে খোলা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে তেল বিক্রি করছেন এবং দিনের বেলায় ওই ব্যবসায়ীরা ছোট ছোট জার ও পাত্রে করে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন ব্যবসায়ীর হয়ে ১০ থেকে ১২ জন লোক পাত্র নিয়ে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বংশিপুর আশা পেট্রোলিয়াম এর ম্যানেজার মঙ্গল কুমার রাতের বেলায় খোলা বাজারের ব্যবসায়ীদের তেল দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে দিনের বেলায় ১০–১২ জন করে একটি সিন্ডিকেটের হয়ে বোতলে করে তেল নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আগামীকাল থেকে স্যারের সঙ্গে কথা বলে বোতলে করে তেল না দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
এতে করে এলাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এই সিন্ডিকেটের কারণেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সংকট দেখা দিচ্ছে এবং ভোক্তাদের বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষ আরও ভোগান্তির শিকার হবে এবং কালোবাজারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক বলেন, “আমি এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। আপনারা এসিল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং তার কাছে অভিযোগ দিন। আমি এসিল্যান্ডকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দিচ্ছি।
Design & Developed BY- zahidit.com
Leave a Reply