মোঃ রাজীব হোসেন,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃশিবালয়ে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ এনে গ্রাম্য সালিশে মারপিট ও অপমানের শিকার হয়ে এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওই গৃহবধুর বাবা শিবালয় থানায় এসে ১১জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত ৫/৬জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর কারখানা শ্রমিক, এক সন্তানের জননী নাজমা আক্তার (২৫) ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- একই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে নাঈম (২১), মৃত জলিল খানের ছেলে আজিজ খান অন্তেজ (৭০) এবং মাধবদী গ্রামের মৃত ছালাম আলীর ছেলে শুক্কুর আলী শফিক (৪৫)। শফিক শিবালয় মডেল ইউনিয়নের বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, উপজেলার উত্তর কাশাদহ গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে নাজমা আক্তার স্থানীয় নবগ্রাম চায়না হার্ডওয়্যার কারখানায় চাকরি করতেন। তিনি স্বামী নূর ইসলাম ও মেয়ে সোনিয়া আক্তারকে (৮) নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন।
কিছুদিন ধরে নাজমার সঙ্গে প্রতিবেশী বিবাহিত জাকির হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্থানীয় একদল যুবক নাজমার বাড়িতে গ্রাম্য সালিশ বসায়। এ সালিশে নাজমা ও জাকির হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে বেদম মারধর করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাকিরকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরদিন শনিবার (১৮ এপ্রিল) কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে নাজমাকে স্থানীয় কিছু লোক কটূক্তি করে এবং পুনরায় সালিশের হুমকি দেয়। এতে ভীত হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজের ঘরে যান।
অনেকক্ষণ দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। এতে সাড়া না পেয়ে তার বাবা ঘরের পার্টিশন টপকে দেখে নাজমা ফাঁসিতে ঝুলছেন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ নামিয়ে আনেন।
এ ঘটনায় নাজমার বাবা শিবালয় থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার এসআই সুমন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানান, আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং জড়িত ৩জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
Design & Developed BY- zahidit.com
Leave a Reply