মোঃ আল আমিন গাজী,শ্যামনগর প্রতিনিধিঃসুন্দরবনের বনকর্মীদের গুলিতে জেলে আমিনুর রহমান গাজীর মৃত্যুর ঘটনায় খুলনার কয়রা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ভাতিজা অলিউল্লাহ বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। অন্যদিকে, বনবিভাগও পাল্টা হত্যাচেষ্টা মামলা করেছে।
হত্যা মামলায় সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের নলিয়ান ফরেস্ট অফিসের স্টেশন অফিসার (এসও) মোবারক হোসেন ও সদর রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শামীম রেজা মিঠুকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৯ নম্বর সোরা গ্রামের মোকছেদ গাজীর ছেলে আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) বৈধ পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন এবং টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে আমিনুর গাজী, অলিউল্লাহ এবং আব্দুল আলিমসহ কয়েকজন ট্রলারযোগে সুন্দরবনের ভেতরে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান। গত ১৮ মে সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে খুলনার কয়রা থানা এলাকার পাতকোষ্টা বেশো খালে অবস্থানকালে স্টেশন অফিসার মোবারক হোসেন ও সহকারী বন সংরক্ষক শামীম রেজা মিঠুর নেতৃত্বে ৯-১০ জনের একটি দল স্পিডবোট ও ট্রলারযোগে সেখানে উপস্থিত হয়।
বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, আসামিরা আমিনুর গাজীকে টাকা নিয়ে তাদের কাছে যেতে বললে তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা গালিগালাজ করে ‘আজ তোর শেষ দিন’ বলে ভয় দেখান। একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্টেশন অফিসার মোবারক হোসেন তার হাতে থাকা রাইফেল দিয়ে আমিনুর গাজীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি তার বাম পাশের মাজা ও কিডনি বরাবর লেগে পুরুষাঙ্গ ভেদ করে ডান পাশের উরু দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় আমিনুর গাজী লুটিয়ে পড়েন এবং প্রায় ২০ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর আসামিরা তাদের নৌকা জোরপূর্বক নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা আমিনুর গাজীর মরদেহ উদ্ধার করে বিকেলে বাড়ি নিয়ে আসেন
খুলনার কয়রা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিহতের ভাতিজার এজাহারের ভিত্তিতে ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহাইলকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় বনসংরক্ষক এ জেড এম হাসানুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য খুলনা অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের নির্দেশে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিভাগীয় বন সংরক্ষক (পূর্ব)-কে প্রধান, কোস্টগার্ডের একজন প্রতিনিধি, খুলনা জেলা প্রশাসনের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য এবং একজন সহকারী বনসংরক্ষককে সদস্যসচিব করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে তিনি জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকেও কয়রা থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া শ্যামনগরে বন বিভাগের অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাপ্ত ছবি যাচাই করে জড়িতদের শনাক্ত করার পর শ্যামনগর থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হবে।
Design & Developed BY- zahidit.com
Leave a Reply