মোঃ আবুল বাসার,নিজস্ব প্রতিনিধি,নোয়াখালীঃনোয়াখালীর সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংযোগ সড়কের একমাত্র কালভার্টটির ধীরগতির নির্মাণকাজের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। কালভার্টটির দুপাশে মাটি ভরাট না করায় এবং নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সড়কটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ভারি যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, আর প্রতিদিন ছোটখাটো যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে আঞ্চলিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মার্চ মাস থেকে দীর্ঘ ছ’মাস ধরে কালভার্টটির নির্মাণকাজ চলায় প্রতিদিন যাতায়াতে চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জের গাংচিল এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী জাকের হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হোসেন জানান, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জের মধ্যে শাক-সবজি কাঁচামালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহনে প্রতিদিন এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু অসম্পূর্ণ কালভার্টের কারণে প্রতিনিয়ত জীবন ঝুঁকি নিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়াও অতিরিক্ত পরিবহণ খরচ গুনে লোকসান হচ্ছে তাদের৷
কাজের ধীরগতির বিষয়ে কালভার্টের ঠিকাদার মো. আলম জানান, গত মার্চ মাসে কাজ শুরু হলেও কালভার্টের ঢালাইয়ের সময় পার্শ্ববর্তী একটি পরিবারের বাধার মুখে পড়তে হয়। বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও ওই পরিবারের সদস্যরা কাজে বাধা দেন। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণেও কাজের কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন ঠিকাদার।
অন্যদিকে,নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযুক্ত পরিবারের এক সদস্য কাজে বাধার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, পুরনো কালভার্টটির সঠিক স্থানে নতুনটি নির্মাণ করা হয়নি। ঠিকাদার নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্থান পরিবর্তন করে তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা দখল করে পূর্ব দিকে কালভার্ট নির্মাণ করছেন, যা মূল অবস্থান থেকে উত্তর-পশ্চিমে হওয়ার কথা ছিল। পূর্বের স্থানে কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানালে ও ঠিকাদার তা প্রত্যাখ্যান করায় বাধ্য হয়েই তারা নির্মাণকাজে বাধা দেন৷
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তবে সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জনভোগান্তি নিরসনে কার্যকর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি ।
Design & Developed BY- zahidit.com
Leave a Reply