মুহাঃ হাবিবুর রহমান
সময়ের ব্যবধানে বারবার ঘুরে ফিরে
চেনা লোকালয় বিধ্স্ত হয়,
প্লাবিত হয়ে পড়ে ঘর গৃহস্থলি-
পায়ে চলা মেঠ পথের ধুলিকণা, উঠোন, পুকুর সাজানো বাগান,
মনের আঙিনায় বেড়ে ওঠা লাউ ডগা,
অনেক যতনে রাখা শিউলি
কিংবা মাধবী লতার পুরো শরীর।
একটা ক্ষত শুকাতে না শুকাতে
আবার সৃষ্টি হয় কষ্টের নদী, দমকা বাতাস আর বৃষ্টির ধারা
আসমান থেকে ছড়িয়ে দেয় প্রতিকূলতার বিষ-
জীবন যন্ত্রনাদগ্ধ অসহ্য বেঁচে থাকার নাম…………
বিধাতা এই জনপদে ভয়ঙ্কর মে আর চাইনা বারবার!
কতো নামে কতো ঢঙে বিরুপ সময় আসে ফিরেফিরে
উপকূলের জনপদে,
বজ্র নিনাদ আসে, ঝড় জলোচ্ছাস আর ভাঙনের খেলা
ইচ্ছে মতো ধ্বংস লীলায় মাতে-করে নৃত্য মহা প্রলয়ের
আমার জন্ম ভিটা তখন অসহায় হয়ে পড়ে
লোনাজলের ঢেউ বিপন্ন করে মাটির বুনোট
ধ্বসে যায় সাজানো সংসার, উদ্বাস্তু মানুষ গুলির চোখ বেয়ে
ঝরে শ্রাবণের ধারা,
ভয়াল-মৃত্যু উপতক্যায় ক্রন্দনের সাথে
জীবনের সব রং মুছে যায় কিশোর-কিশোরীর, যুবা-বৃদ্ধের,
নারী-শিশুদের।
বানের তোড়ে ভিটেমাটির সাথে ক্ষয়ে যায়
অবশিষ্ট জীবনের সাধ,
পায়ে ধরে নরম কাদাগুলি, যেওনা ছেড়ে অন্য কোথাও,
তোমাদের সাত পুরুষের স্মৃতি বুকে ধরে শান্ত হয়েছি
নিজের বুকে জন্ম দিয়েছি বৃক্ষ-লতা
প্রেম বিরহের উপাখ্যান,
জন্ম-মৃত্যুর হিসাব রেখেছি আজ অবধি!
আমার জন্ম ভিটা নোনাজলে ডোবে-
বিপন্ন হয় সাগরের রুদ্র রোষে তবুও আকড়ে থাকি
বিধ্বস্ত ভিটার ক্ষয়ে যাওয়া অবশিষ্ট মাটিকে ভালোবেসে।
Design & Developed BY- zahidit.com
Leave a Reply